
পারভেজ বাঙালী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালীন ৮ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ৪টি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
বুধবার (১ জুলাই, ২০২৬) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানা এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন:
১. মেহেদী হাসান (২০): পিতা- শাহীন, সাং- দেবীদ্বার, কুমিল্লা (বর্তমান: টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনি, চট্টগ্রাম)।
২. সাগর (১৯): পিতা- মোঃ জসীম, সাং- চাটখিল, নোয়াখালী (বর্তমান: টাইগারপাস কোয়ার্টার বক্স, চট্টগ্রাম)।
৩. অন্তর (২৩): পিতা- শাহ আলম, সাং- কাজীর দেউরি, চট্টগ্রাম (বর্তমান: কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।
৪. সাহাব উদ্দিন (৩০): পিতা- জাহের মিয়া প্রকাশ জাহাঙ্গীর, সাং- কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া (বর্তমান: ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকা, চট্টগ্রাম)।
৫. মোঃ রাকিব (২০): পিতা- দিদার, সাং- মাস্টারপুল, বাকলিয়া (বর্তমান: মিস্ত্রিপাড়া, ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম)।
৬. মোঃ রাসেল (২৭): পিতা- আব্দুল হাকিম বাবুর্চি, সাং- মুরাদনগর, কুমিল্লা (বর্তমান: অলংকার, পাহাড়তলী, চট্টগ্রাম)।
৭. ফয়সাল (২৬): পিতা- জসিম উদ্দিন, সাং- পটিয়া, চট্টগ্রাম (বর্তমান: মাস্টারপুল, বাকলিয়া, চট্টগ্রাম)।
৮. ইমন (২৩): পিতা- মৃত শফিকুল ইসলাম, সাং- কুমিল্লা কোতোয়ালী, কুমিল্লা (বর্তমান: মিস্ত্রিপাড়া, ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম)।
ব্যবসায়ী ও ট্রেনযাত্রীরাই ছিল মূল টার্গেট
কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা স্বীকার করেছে যে তারা বিভিন্ন ছিনতাইকারী চক্রের সাথে যোগসাজশ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। বিশেষ করে, ট্রেন প্ল্যাটফর্মে পৌঁছানোর আগেই যেসব যাত্রী নেমে যান, তাদেরকে এবং রিয়াজউদ্দিন বাজার, ফলমণ্ডি ও নিউ মার্কেট এলাকায় আসা ব্যবসায়ী ও পথচারীদের টার্গেট করে তারা ছিনতাই ও ডাকাতি করত। ঘটনার রাতেও তারা বড়সড় কোনো ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে একত্রিত হয়েছিল।
পুলিশ রেকর্ড পর্যালোচনা করে জানা যায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে:
রাসেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতিসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে।
সাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, মাদক ও বিস্ফোরকসহ ৫টি মামলা রয়েছে।
মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও মারামারিসহ ২টি মামলা রয়েছে।
অন্তরের বিরুদ্ধে পূর্বে ২টি ছিনতাই মামলা রয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২ ধারায় (ডাকাতির প্রস্তুতি ও সমাবেশ) কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে (মামলা নং-০১, তারিখ: ০১/০৭/২০২৬ খ্রি.)। অপরাধ দমনে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে।